• মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
শনির আখড়ায় কলেজছাত্র মিনহাজ হত্যা: বিচারের বাণী কি নিভৃতে কাঁদবে? নেপথ্যে কোটি টাকার মিশন ও প্রভাবশালী মহলের ‘ছাতা’! ক্লাস চলাকালীন এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানের অপেক্ষায় কাদাপানিতে বসে শিক্ষার্থীরা, ক্ষোভ অভিভাবকদের জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণে লালমাইয়ে আলোচনা সভা শাহজালাল (রহ.) মাজারে অনৈসলামিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ: ক্ষুব্ধ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নারায়ণগঞ্জে থানা চত্বরে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরানোর চেষ্টা আসামির যাত্রীবাহি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জন আহত রূপগঞ্জে মাদক মামলায় ৩ জনের কারাদণ্ড ফতুল্লায় গাঁজাসহ আটক যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ৮ ঘন্টা পর মিললো নিখোঁজ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরির মরদেহ পাঠানটুলিতে অবৈধ গ্যাস সিন্ডিকেট মোখলেস গংয়ের তাণ্ডব: অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, ঝুঁকিতে জনজীবন

সাবিন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬: বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়ালেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা

অনলাইন ডেস্ক / ৩২৩ Time View
Update : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬
সাবিন অ্যাওয়ার্ডস বিজয়ী তিন বিজ্ঞানীর মধ্যে আছেন বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা (ডানে)ছবি: সাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইট

জনস্বাস্থ্যে এবং টিকা গবেষণায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ সাবিন অ্যাওয়ার্ডস পেতে যাচ্ছেন তিন অসামান্য বিজ্ঞানী। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন বাংলাদেশের কৃতী সন্তান ড. সেঁজুতি সাহা। আগামী ১২ মে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। সাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পুরো অনুষ্ঠানটি অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

সেঁজুতি সাহার ‘রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’ জয়

বিশ্বের সর্ববৃহৎ টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচিতে জিনতত্ত্বভিত্তিক বিশ্লেষণের সফল প্রয়োগের জন্য ড. সেঁজুতি সাহাকে ২০২০ সাল থেকে প্রবর্তিত ‘রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হচ্ছে। চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিএইচআরএফ) উপনির্বাহী পরিচালক হিসেবে তিনি দেশে একটি অত্যাধুনিক জিনোম গবেষণাগার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর গবেষণার ওপর ভিত্তি করেই ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ৪ কোটির বেশি শিশুকে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিনের (টিসিভি) আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও আরএসভি ও ক্লেবসিবেলার মতো রোগের টিকা তৈরিতে এই জিনোম সিকোয়েন্সিং ব্যাপক সাহায্য করছে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের গবেষকদের পথ দেখাতেও তিনি নিরলস কাজ করছেন।

নিজের এই অর্জন সম্পর্কে ড. সেঁজুতি সাহা জানান, এই স্বীকৃতি তাঁর কাছে ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ। এটি মূলত বাংলাদেশের একনিষ্ঠ গবেষক দলটির দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল। একসঙ্গে কাজ করলে যেকোনো স্থানে বসেই যে বিশ্বমানের বিজ্ঞানচর্চা সম্ভব, এটি তারই প্রমাণ।

সাবিন ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী অ্যামি ফিনান ড. সাহার প্রশংসা করে জানান, তিনি নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি শুধু গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ নন, বরং মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নীতি নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

উগুর শাহিন ও ওজলেম ত্যুরেজির ‘গোল্ড মেডেল’ অর্জন

করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় যুগান্তকারী টিকা উদ্ভাবনের জন্য বিজ্ঞানী দম্পতি অধ্যাপক উগুর শাহিন এবং অধ্যাপক ওজলেম ত্যুরেজিকে ১৯৯৩ সাল থেকে প্রচলিত ‘অ্যালবার্ট বি. সাবিন গোল্ড মেডেল’ প্রদান করা হচ্ছে। ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা রেকর্ড সময়ের মধ্যে কোভিড-১৯ টিকা তৈরি করে কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া ও এইচআইভির মতো মারাত্মক রোগের টিকা তৈরিতে কাজ করার পাশাপাশি আফ্রিকায় টিকা উৎপাদনের টেকসই অবকাঠামো গড়তেও নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এক যৌথ বিবৃতিতে এই যুগল জানান, বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট সাবিনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁরা বিশ্বাস করেন, বিজ্ঞান তখনই সার্থক যখন তা মানুষের উপকারে আসে। এই মেডেল তাঁদের পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার একটি বড় স্বীকৃতি।

অ্যামি ফিনান তাঁদের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, গবেষণাগারের উদ্ভাবনকে সাহসিকতার সঙ্গে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগিয়ে এই দুই বিজ্ঞানী টিকার ভবিষ্যৎকেই নতুন রূপ দিয়েছেন।


এক নজরে এবারের সাবিন অ্যাওয়ার্ডস:

সম্মাননার নাম মনোনীত বিজ্ঞানী মূল অবদান
রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড ড. সেঁজুতি সাহা জিনোম গবেষণার মাধ্যমে বৃহৎ পরিসরে টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা
অ্যালবার্ট বি. সাবিন গোল্ড মেডেল উগুর শাহিন ও ওজলেম ত্যুরেজি কোভিড-১৯ টিকা আবিষ্কার এবং আধুনিক প্রযুক্তির ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd