বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা:
রক্তাক্ত সেই সন্ধ্যা ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড
গত ২৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় দনিয়া কলেজের সামনে একা পেয়ে মিনহাজের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায় একদল পেশাদার ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী। সুইচ গিয়ার, চাপাতি ও রামদার একের পর এক আঘাতে নিমিষেই ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় একটি সম্ভাবনাময় প্রাণ। কলেজ ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জুনিয়র-সিনিয়র দ্বন্দ্ব এবং স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য বিস্তারের প্রতিবাদ করাই কাল হয়েছিল মিনহাজের। এই নির্মম ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন।
এলাকায় গুঞ্জন ও তদন্তের নামে কালক্ষেপণ দেখেই স্পষ্ট হচ্ছিল জল কতদূর গড়িয়েছে। অবশেষে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এক চরম সত্য। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক দায়িত্বশীল ও অত্যন্ত গোপন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ঘাতক পক্ষকে আইনের হাত থেকে বাঁচাতে পর্দার আড়ালে বসেছে এক বিশাল ‘রফা-দফা’র হাট।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যমতে:
পলাতক আসামিপক্ষ অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং অর্থবিত্তে শক্তিশালী। গ্রেফতার এড়াতে ও মামলা দুর্বল করতে তারা কোটি টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু অসাধু কর্মকর্তা এই খুনিদের বাঁচানোর মিশনে যুক্ত হয়েছেন। সরাসরি অভিযোগ উঠেছে, “পুলিশ ও প্রভাবশালী নেতারা মোটা অঙ্কের টাকা খেয়ে খুনিদের চারদিক থেকে সুরক্ষা দিচ্ছেন এবং তাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখছেন।”
এই গোপন রফা-দফার কারণেই পুলিশ এখন আসামিদের অবস্থান জানা সত্ত্বেও ‘খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’ বলে দায় এড়াচ্ছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।
এদিকে মূল আসামিদের একটা বড় অংশ বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ানোয় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে মিনহাজের পরিবার। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, মামলা তুলে নিতে এবং মুখ বন্ধ রাখতে প্রতিনিয়ত তাদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
হত্যাকারীদের আড়াল করার এই নোংরা খেলার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দনিয়া কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, “আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি কীভাবে টাকার জোরে খুনিদের আড়াল করা হচ্ছে। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলবাজি বা পুলিশের উচ্ছিষ্টভোগী কর্মকর্তাদের পকেট ভারী করার জন্য আমাদের ভাইয়ের রক্ত ঝরতে দেব না। অবিলম্বে যদি বাকি সব আসামিকে গ্রেফতার করা না হয়, তবে ঢাকা শহর অচল করে দেওয়ার মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু কর্মকর্তার অতি লোভ এবং রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা পড়ে যেতে পারে না। একটি স্বাধীন দেশে টাকার জোরে খুনিরা পার পেয়ে যাবে, আর একজন মেধাবী ছাত্রের পরিবার সুবিচার থেকে বঞ্চিত হবে—তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অবিলম্বে এই দৃশ্যমান নিষ্ক্রিয়তা ও গোপন রফাদফা ভেঙে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সকল আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।