রাজধানীর দনিয়া কলেজের সামনে মেধাবী ছাত্র মিনহাজকে প্রকাশ্য দিবালোকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি ‘কিং মাহফুজ’ ওরফে মোঃ মাহফুজ সরকার জামিনে মুক্তি পেয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি এলাকায় ফিরে পুনরায় সক্রিয় হওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে দাপিয়ে বেড়ানোয় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও গ্রেপ্তার
উল্লেখ্য যে, দনিয়া কলেজের সামনেই অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে মিনহাজকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে মাহফুজ সরকারকে গ্রেপ্তার করেছিল। সে সময় গণমাধ্যমে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবরটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয় এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজপথ।
জামিন নিয়ে ধোঁয়াশা ও বর্তমান পরিস্থিতি
কারাগারে থাকার দীর্ঘদিন পর কখন এবং কীভাবে এই দুর্ধর্ষ হত্যা মামলার প্রধান আসামি জামিন পেল, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জামিনে বেরিয়ে আসার পর মাহফুজের আচরণে কোনো অনুশোচনা দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বরং সে বর্তমানে:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতি সক্রিয়: নিয়মিত ফেসবুক পোস্ট এবং আড্ডার ছবি আপলোড করে নিজের স্বাভাবিক উপস্থিতি জাহির করছে।
রাজনৈতিক পরিচয়: নিজেকে ‘বিএনপি কর্মী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে বা প্রচার চালাচ্ছে।
ছাত্রদলের প্রতি প্রশ্ন ও নৈতিক অবস্থান
একজন চিহ্নিত হত্যা মামলার আসামির রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের কাছে প্রশ্ন রাখছেন—একজন কুখ্যাত আসামির রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া বা পরিচয় দেওয়া দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করছে কি না? এ বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
শোকার্ত পরিবারের আর্তনাদ
মিনহাজের পরিবার এখনো বিচারের আশায় দিন গুনছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তাদের জীবন আজ বিষাদময়। মিনহাজের এক আত্মীয় আক্ষেপ করে বলেন,
”আমরা এখনো আদালতের বারান্দায় ঘুরছি বিচারের আশায়, আর খুনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। জামিন পাওয়া তার আইনি অধিকার হতে পারে, কিন্তু খুনের আসামি যখন বুক ফুলিয়ে দাপট দেখিয়ে বেড়ায়, তখন ন্যায়বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হয়।”
অমীমাংসিত প্রশ্নসমূহ
এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বেশ কিছু কঠোর প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে:
১. একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ১ নম্বর আসামি এত দ্রুত জামিন পেল কীভাবে?
২. প্রভাবশালী কোনো মহলের সুপারিশ বা আইনি দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে কি এই জামিন নিশ্চিত করা হয়েছে?
৩. বিচারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কি নিশ্চিত হবে, নাকি মিনহাজের রক্ত বৃথাই যাবে?
উপসংহার:
প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এই খুনের বিচার প্রক্রিয়া যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন সাধারণ মানুষ। মিনহাজ হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করাই এখন দনিয়া কলেজের শিক্ষার্থীদের একমাত্র দাবি।