ফতুল্লায় তিন এসআইয়ের বিরুদ্ধে সত্তুর লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া ও গুলি করার বিস্ফোরক অভিযোগ: পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন
Reporter Name
/ ৪৮২
Time View
Update :
রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
Share
বিশেষ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার তিন উপ-পরিদর্শক (এসআই)—নন্দন, শামীম ও রফিকের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি, ক্রসফায়ার বা এনকাউন্টারের ভয় দেখানো এবং পায়ে গুলি করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিচার ও আইনগত ব্যবস্থা চেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বন্দর থানার কুশিয়ারা এলাকার বাসিন্দা পলি বেগম (৬০) পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এই আবেদন জমা দেন। তার নাতি জসিম ফতুল্লা থানার ইসদাইর রেললাইন এলাকায় ভাঙাড়ির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
অভিযোগপত্রের মূল বিষয়বস্তু:
সত্তুর লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ: বিগত ৩-৪ মাস ধরে অভিযুক্ত তিন এসআই একাধিক মামলায় ফাসানো, রিমান্ডে নির্যাতন ও হাত-পা ভেঙে ফেলার ভয় দেখিয়ে জসিমের পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৭০,০০,০০০ (সত্তুর লাখ) টাকা আদায় করেন বলে পলি বেগম অভিযোগে উল্লেখ করেন।
দোকানে এসে চাঁদা দাবি ও গুলিবর্ষণ: গত ১৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ফতুল্লার ইসদাইর এলাকায় জসিমের দোকানে এসে অভিযুক্ত এসআই নন্দন ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে এসআই নন্দন জসিমের বাম পায়ে গুলি করে গুরুতর আহত করেন এবং অস্ত্র-মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে চালান দেন।
লাশ গুমের হুমকি: পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন যোগাযোগ করলে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। উক্ত টাকা না দিলে জসিমের বাবা আব্দুর রেজ্জাককেও গুলি করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়।
টাকা লেনদেনের বিবরণ: জসিমের মামলা হালকা করা ও রিমান্ড না চাওয়ার আশ্বাস পেয়ে বাধ্য হয়ে পলি বেগম গত ১৫ ও ১৬ তারিখে দুই দফায় আড়াই লাখ টাকা প্রদান করেন। তবে দাবি অনুযায়ী পুরো টাকা না মেটায় পুরো পরিবারকে হত্যা ও গুমের আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী পলি বেগম প্রদত্ত আড়াই লাখ টাকা উদ্ধার, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পুরো পরিবারের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসন ও জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।