নিজস্ব প্রতিবেদক,সিদ্ধিরগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পাঠানটুলি এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মোখলেস ও তার সহযোগীরা। আইলপাড়া কবরস্থান, আদর্শ কলোনি এবং শাহ জালাল রোডসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকায় আবাসিক ভবন ও বাণিজ্যিক বাংলা ডাইং কারখানাগুলোতে দেদারসে দেওয়া হচ্ছে এই অবৈধ গ্যাস সংযোগ। সিন্ডিকেটের মূলহোতা মোখলেস গংয়ের এমন বেপরোয়া কর্মকাণ্ড ও নানামুখী অত্যাচারে বর্তমানে অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ এলাকাবাসী।
অনুসন্ধান ও স্থানীয় বিশ্বস্ত তথ্য সূত্রে জানা গেছে, এই পুরো অবৈধ গ্যাস বাণিজ্যের নেপথ্যে মূল শেল্টারদাতা বা আশ্রয়দাতা হিসেবে কাজ করছেন ‘গ্যাস দুলাল’ নামে এক ব্যক্তি। তার সরাসরি ছত্রছায়ায় ও ইন্ধনে মাঠপর্যায়ে সিন্ডিকেটটি নিয়ন্ত্রণ করছে—মোখলেস, দিদার, শামীমসহ আরও কয়েকজন।
দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় তিতাস গ্যাসের মূল লাইন থেকে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে সংযোগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে তারা পুরো এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে।
অভিযোগে প্রকাশ, পাঠানটুলির আইলপাড়া কবরস্থান এলাকা, আদর্শ কলোনি এবং শাহ জালাল রোডের প্রতিটি গলিতে রাতের আঁধারে এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ্যেই বসানো হয়েছে অবৈধ পাইপলাইন। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এই সংযোগগুলো দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন বহুতল আবাসিক ভবনে।
সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে এলাকার বেশ কিছু ‘বাংলা ডাইং’ (অবৈধ ডাইং কারখানা) কারখানায় এই গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ডাইং কারখানাগুলোতে উচ্চ চাপে গ্যাস ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ বৈধ গ্রাহকরা রান্নার জন্য লাইনে একেবারেই গ্যাস পাচ্ছেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মোখলেস ও তার দলের লোকজন এলাকায় এতোটাই প্রভাবশালী ও বেপরোয়া যে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায় না। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে নানাভাবে হুমকি-ধমকি ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। “চক্রটি প্লাস্টিক ও নিম্নমানের পাইপ দিয়ে মাটির নিচ দিয়ে গ্যাসলাইন টেনেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে। আমরা প্রতিনিয়ত আগুনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। তার ওপর বৈধ গ্রাহক হয়েও আমরা গ্যাস পাচ্ছি না, অথচ মোখলেস গং অবৈধ সংযোগ বিক্রি করে বড়লোক হচ্ছে।”আর্তনাদ করে বলেন এক ভুক্তভোগী গৃহিণী।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঝে মাঝে তিতাস কর্তৃপক্ষ কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে লাইন কেটে দিলেও, তারা চলে যাওয়ার পরপরই মোখলেস সিন্ডিকেট পুনরায় সংযোগ জোড়া দিয়ে দেয়।
পাঠানটুলির সাধারণ মানুষ এই অবৈধ গ্যাস সিন্ডিকেটের অত্যাচার এবং ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের জরুরি ও স্থায়ী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। দ্রুত এই চক্রের মূলহোতা মোখলেস, দিদার, শামীম ও তাদের গডফাদার গ্যাস দুলালকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
https://shorturl.fm/IQZZX