সিলেট ডেস্ক:
সিলেটের আধ্যাত্মিক রাজধানী খ্যাত হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করে ইসলামবিরোধী নাচ, গান এবং কথিত ভক্ত ও ভণ্ড বাবাদের অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে। দিন দিন এই ধরনের কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এবং সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, একশ্রেণির মানুষ মাজার জিয়ারতের নামে এসে সেখানে মাদক সেবন, উচ্চশব্দে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে নাচ-গান এবং শরিয়তবিরোধী নানাবিধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। সাধারণ দর্শনার্থীদের দাবি, মাজারের পবিত্রতা রক্ষা এবং এই অনৈসলামিক কার্যকলাপ বন্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কঠোর তদারকির অভাব রয়েছে।
ইসলাম ও মাজার সংস্কৃতির প্রকৃত রূপ
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, মাজার বা কবর জিয়ারতের সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও আদব রয়েছে। ইসলামে এই বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
জিয়ারতের উদ্দেশ্য: ইসলামে কবর বা মাজার জিয়ারতের মূল উদ্দেশ্য হলো নিজের মৃত্যুর কথা স্মরণ করা এবং মৃত ব্যক্তির আত্মার মাগফিরাতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা।
নাচ-গান ও বাদ্যযন্ত্র নিষিদ্ধ: যেকোনো পবিত্র স্থান তো বটেই, সামগ্রিকভাবে ইসলামে অশ্লীল নাচ, গান এবং বাদ্যযন্ত্রের আসরকে সম্পূর্ণ হারাম ও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সিজদা ও শিরক: আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করা বা কবরের কাছে কোনো কিছু মানত করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং এটি শিরকের শামিল।
ভণ্ডামি প্রতিরোধ: মাজারকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের ব্যবসা, প্রতারণা বা তথাকথিত ‘বাবা’ সেজে মানুষকে বিভ্রান্ত করার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই।
মুসল্লি ও সচেতন মহলের দাবি
স্থানীয় মুসল্লিদের মতে, ওলি-আউলিয়াদের স্মৃতিবিজড়িত এই পবিত্র ভূমিতে এমন অসামাজিক ও শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা মাজারের ঐতিহ্য ও পবিত্রতা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মাজার কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। অবিলম্বে মাজার প্রাঙ্গণ থেকে সকল প্রকার ভণ্ডামি, মাদক ও নাচ-গানের আসর বন্ধ করে ইসলামের সঠিক আদব কায়েম করার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন সমাজ।