বিশেষ প্রতিনিধি, শরীয়তপুর:
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে ৬ বছরের শিশু তায়েবার নির্মম হত্যাকাণ্ডের এক বছর পার হয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো গতি না আসায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঘটে যাওয়া এই জঘন্যতম অপরাধের এক বছর অতিক্রান্ত হলেও বিচার মেলেনি, উল্টো প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে আসামিরা জামিনে বেরিয়ে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পেছনের ইতিহাস:
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে সখিপুর ইউনিয়নের ছৈয়ালকান্দি গ্রামের টিটু সরদারের ৬ বছরের শিশু তায়েবা বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের দুই দিন পর প্রতিবেশীর বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, পারিবারিক কলহ ও শত্রুতার জেরে শিশু তায়েবাকে শ্বাসরোধ ও নির্যাতন করে হত্যার পর কানের দুল খুলে লাশ গুম করা হয়েছিল। উক্ত ঘটনায় পুলিশ তায়েবার আপন চাচি (প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আয়েশা বেগম) সহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে, যাদের দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছিল।
রাজনৈতিক প্রভাব ও বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা:
স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল আসামিপক্ষের আত্মীয়-স্বজন সখিপুরের স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত এবং প্রভাবশালী পদে রয়েছেন। এমনকি দলমত নির্বিশেষে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের সাবেক ও বর্তমান প্রভাবশালী সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতাদের সাথে আসামিপক্ষের গভীর আঁতাত ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে—এই শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে মূল আসামিরা আদালত থেকে জামিন হাতিয়ে নিয়ে এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এমনকি বাদিপক্ষ ও সাক্ষীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও উঠছে, যার ফলে পুরো মামলার বিচার প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
প্রশাসনের কাছে শরীয়তপুরবাসীর প্রশ্ন:
হত্যাকাণ্ডের এক বছর অতিক্রান্ত হয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস চলে আসলেও কেন এখনো বিচার প্রক্রিয়া আলোর মুখ দেখল না—তা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে পুরো শরীয়তপুর। সখিপুরসহ জেলার সর্বস্তরের মানুষ এখন প্রশাসনের কাছে একটাই জোরালো প্রশ্ন তুলছেন— “রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে কি হেরে যাবে নিষ্পাপ শিশুর রক্ত? কেন এখনো হলো না তায়েবা হত্যার সঠিক বিচার?”
নিহতের পরিবার ও সচেতন মহল অবিলম্বে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করে আসামিদের জামিন বাতিল এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।