বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলা সংলগ্ন মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারির কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, হিজলা থানা পুলিশ ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে যোগসাজশ করে অবৈধভাবে টাকা খেয়ে নদীতে মা ইলিশ শিকারের অবাধ সুযোগ করে দিচ্ছে।
ওসির নির্দেশ ও কোস্টগার্ডের যৌথ সিন্ডিকেট
অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশাল জেলার হিজলা থানার আওতাধীন চর মেমানিয়া সহ মেঘনার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বর্তমানে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব চলছে। নিয়ম অনুযায়ী অভয়াশ্রমে যেকোনো প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ হলেও হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-র প্রত্যক্ষ নির্দেশ এবং কোস্টগার্ডের পূর্ণ সহযোগিতায় সেখানে বেপরোয়াভাবে জেলেদের নামানো হচ্ছে। থানা পুলিশ ও কোস্টগার্ড পৃথকভাবে কাজ না করে একসাথে মিলেমিশে এই ঘুষের টাকা লেনদেন করছে।
ট্রলারপ্রতি দিনে ১০,০০০ টাকা আদায়: মূল হোতা জাকির মাঝি ও ৩ কোস্টগার্ড সদস্য
নদীতে ট্রলার ও নৌকা নামানোর বিনিময়ে গড়ে তোলা হয়েছে একটি সুসংগঠিত চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী জেলেদের ভাষ্যমতে:
দৈনিক চাঁদার হার: চর মেমানিয়ার চরে ইলিশ ধরার জন্য প্রতিটি ট্রলার থেকে প্রতিদিন ১০,০০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।
জাকির মাঝির ভূমিকা: স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকির মাঝি নিজে মাঠে থেকে ওসির নির্দেশে ট্রলারপ্রতি এই ১০,০০০ টাকা সংগ্রহ করছেন।
কোস্টগার্ড মাঝিদের হাত: জাকির মাঝির পাশাপাশি কোস্টগার্ডের চিহ্নিত ৩ জন মাঝিও সরাসরি এই অনৈতিক টাকা আদায়ের প্রক্রিয়ায় জড়িত।
জাকির মাঝি এবং কোস্টগার্ডের ওই ৩ মাঝির সংগৃহীত এই বিপুল অঙ্কের টাকা সরাসরি হিজলা থানার ওসি ও কোস্টগার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হয়ে যাচ্ছে। টাকা পরিশোধ করলেই মিলছে নদীতে নির্বিঘ্নে ইলিশ শিকারের ‘গ্রিন সিগন্যাল’, আর টাকা না দিলে দেওয়া হচ্ছে ট্রলার জব্দ ও অভিযানের হুমকি।
ধ্বংসের মুখে জাতীয় সম্পদ
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রজনন মৌসুমে ডিম ছাড়ার জন্য মেঘনার স্বাদু পানিতে উঠে আসা মা ইলিশ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। অথচ হিজলা থানার ওসি, কোস্টগার্ড এবং বিএনপি নেতা জাকির মাঝির যৌথ অর্থলিপ্সার কারণে চর মেমানিয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার ডিমওয়ালা ইলিশ উজাড় হচ্ছে। এতে সরকারের ইলিশ প্রজনন রক্ষা কর্মসূচি চরমভাবে ভেস্তে যাচ্ছে এবং জাতীয় মৎস্য সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।
আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় সাধারণ মৎস্যজীবী ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে। তারা অবিলম্বে হিজলা থানার ওসি, সংশ্লিষ্ট কোস্টগার্ড সদস্য এবং বিএনপি নেতা জাকির মাঝির বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত গঠন করে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।