”এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল খুনিরা!” > “প্রশাসন নীরব, ভুক্তভোগী পরিবারকে গুম ও ধর্ষণের হুমকি!”
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় প্রকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যুবলীগ কর্মী রিয়াজ উদ্দিন বাবুকে (৩৮)। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় ২ দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে প্রধান আসামী শাকিল হোসেনকে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। ফতুল্লা থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কললিস্ট পর্যালোচনা ও জিজ্ঞাসাবাদে আসামী শাকিলের সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে পুলিশি তদন্তে কিছু তথ্য উঠে এলেও ভুক্তভোগী পরিবারের মূল অভিযোগ—রাজনীতি ও ফুটপাতের চাঁদা বাজির পেছনে নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নাড়ানো মূল পরিকল্পনাকারীরা এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে।
নিহত রিয়াজের মা লাভলী বেগম ও পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে জানান, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে সরাসরি ইন্ধন ও নির্দেশ রয়েছে ফতুল্লার লালপুরের বিএনপি নেতা রিয়াদ চৌধুরী ও তার দলবলের। নিহতের পরিবার কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রিয়াজ উদ্দিন বাবু স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতি হিংসা এবং ফতুল্লার পঞ্চবটি মোড়ে ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ দোকান ও ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে সাবেক এই বিএনপি নেতা ও তার অনুসারীরা রিয়াজের ওপর মারাত্মক ক্ষুব্ধ ছিল। সেই শত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে রিয়াজকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ওপর্যুপরি কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর থেকে মামলা দায়ের করা হলেও মূল আসামীদের গ্রেপ্তারে কোনো অগ্রগতি না থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবার। নিহতের মা ও স্ত্রী মোসাঃ পারভীন বেগম জানান, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য রিয়াদ চৌধুরী ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী প্রতিনিয়ত তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকি প্রদর্শন করছে। এমনকি মামলা তুলে না নিলে নিহতের স্ত্রীকে গুম, ধর্ষণ এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের মেরে ফেলার নগ্ন হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে সাবেক বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা রিয়াদ চৌধুরীসহ মূল পরিকল্পনাকারী ও পলাতক আসামীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে এবং অসহায় পরিবারটিকে দ্রুত সার্বিক নিরাপত্তা দিতে হবে।