বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরানো উপার্জনের টাকা আপন ভাইয়ের কাছে পাঠিয়ে এখন দিশেহারা শরীয়তপুরের গৌতম মন্ডল। পনেরো লক্ষ টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছিলেন নিজের বড় ভাই উত্তম মন্ডলের কাছে, আর আড়াই লক্ষ টাকা পাঠিয়েছিলেন ভাইয়ের শ্যালক বিষু মন্ডলের কাছে। দেশে ফিরে সেই টাকা ফেরত চাইলে টাকা দিতে অস্বীকারসহ তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার বিবরণ
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলার পালং মডেল থানার পাটানিগাও গ্রামের জতিন্দ্র মন্ডলের ছেলে গৌতম মন্ডল গত ২০১৫ সালে জীবিকার তাগিদে ইতালিতে পাড়ি জমান। প্রবাসে থাকাকালীন নিজের উপার্জিত অর্থ নিরাপদে রাখার লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন সময়ে তার বড় ভাই উত্তম মন্ডল এবং ভাইয়ের শ্যালক ডামুড্যা থানার পইট্টাডি গ্রামের বিষু মন্ডলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠান।
গৌতম মন্ডল জানান:
উত্তম মন্ডলের কৃষি ব্যাংকের সেভিং অ্যাকাউন্ট (নং-৪০২২) এ পাঠিয়েছেন মোট ১৫,০০,০০০/- (পনেরো লক্ষ) টাকা।
বিষু মন্ডলের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সেভিং অ্যাকাউন্ট (নং-১১১১৫৭০০১৯২৮২) এ পাঠিয়েছেন ২,৫০,০০০/- (দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা।
হুমকি ও সালিশি বৈঠক
২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে গৌতম মন্ডল স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর তিনি পাওনা টাকা ফেরত চাইলে বিবাদীরা টালবাহানা শুরু করে এবং এক পর্যায়ে টাকা ফেরত দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। এই নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে টাকা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানালেও অভিযুক্তরা তা অমান্য করে। উল্টো ছোট ভাই গৌতমকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।
আইনি পদক্ষেপ
পারিবারিক ও সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে গত বৃহস্পতিবার পালং মডেল থানায় হাজির হয়ে বিবাদীদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ (সাধারণ ডায়েরি) দায়ের করেন ভুক্তভোগী গৌতম মন্ডল।
ভুক্তভোগী গৌতম মন্ডল বলেন, “আমি বিশ্বাস করে আমার জীবনের সব আয় বড় ভাইয়ের কাছে পাঠিয়েছিলাম। আজ আমি দেশে এসে নিঃস্ব। তারা আমার টাকা তো দিচ্ছেই না, উল্টো আমাকে মেরে ফেলার ভয় দেখাচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই।”
পালং মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।