নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন মাসদাইর এলাকায় পাওনা টাকা ফেরত না দিয়ে বাড়ি নির্মাণ ও ব্যাংক লোনের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর ৯ লাখ ২১ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই পরিবারের চার সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা ওই এলাকায় একটি বাড়িতে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ভুক্তভোগী রুমি আক্তার (২৮) এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন—
১. মোঃ আলাল উদ্দিন (৪৯), ২. খালেদা বেগম (৪৫), ৩. নাঈম (২৮) এবং ৪. সুমি (২২)। তারা সবাই ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার জাগির কাজিয়া কান্দা এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে মাসদাইর গোরস্থান সংলগ্ন খন্দকার ভিলায় বসবাস করছিলেন।
ঘটনার বিবরণ:
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা রুমি আক্তারের ভাড়াটিয়া বাড়িতে দীর্ঘদিন সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সুবাদে তাদের মধ্যে একটি সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিবাদীরা তাদের গ্রামের বাড়িতে ঘর নির্মাণ করবেন এবং ব্যাংক থেকে লোন পাওয়ার পর টাকা পরিশোধ করবেন—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত ১৬ জুন, ২০২৫ তারিখে রুমি আক্তারের কাছ থেকে নগদ ৯ লাখ ২১ হাজার টাকা কর্জ হিসেবে গ্রহণ করেন।
টাকা নেওয়ার পর থেকে তারা দীর্ঘদিন ধরে পরিশোধের বিষয়ে টালবাহানা করতে থাকেন। গত ১ মে, ২০২৬ তারিখ ভোর ৬টার দিকে কাউকে কিছু না জানিয়ে তারা বর্তমান ঠিকানা থেকে সপরিবারে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্তরা একইভাবে এলাকার আরও অনেকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি:
ভুক্তভোগী রুমি আক্তার জানান, বিবাদীদের দেওয়া মোবাইল নম্বরগুলো (০১৯৫৯০৭৫৭২১, ০১৬১৭১৪২৫৯৮) মাঝে মাঝে সচল পাওয়া গেলেও তারা কল রিসিভ করছেন না। আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত মহলে খোঁজ নিয়েও তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।
প্রতারণার শিকার রুমি আক্তার বলেন, “তারা আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে এই বিশাল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছে। আমি প্রশাসনের কাছে আমার টাকা উদ্ধার এবং এই প্রতারক চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
ফতুল্লা থানা পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।