নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১নং ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন স্থানীয় দোকানদার ও এলাকাবাসী। দীর্ঘদিনের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকশত দোকানে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে প্রতিদিন নির্ধারিত হারে টাকা আদায় করছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। এক বাতির জন্য দৈনিক ৬০ টাকা, ফ্যান বা অতিরিক্ত সংযোগের জন্য আরও বেশি টাকা নেওয়া হয়। এভাবে প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে, যা মাস শেষে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪ থেকে ৬ লাখ টাকায়।
অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত চিহ্নিত এক চাঁদাবাজ কামাল, যিনি স্থানীয় বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনের ছোট ভাই বলে পরিচিত। গত ৫ আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় চাঁদাবাজির সময় তিনি ছাত্র-জনতার হাতে আটক হন। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই দিয়ে স্থানীয় সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে হস্তান্তর করে। এলাকাবাসীর দাবি, এই কামালই অবৈধভাবে বিদ্যুতের মিটার নামিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এলাকার ফল ব্যবসায়ী নাহিদ বলেন, “আমরা বাধ্য হয়েই এই সংযোগ ব্যবহার করি। বৈধভাবে লাইন নিতে গেলে মাসের পর মাস ঘুরতে হয়, কিন্তু এখানে টাকা দিলেই সংযোগ পাওয়া যায়।
বিকাশ দোকানদার জসিম জানান, “একটা বাতির জন্য প্রতিদিন ৬০ টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে লাইন কেটে দেয়। আমরা ছোট মানুষ, এত টাকা দেওয়া খুব কষ্টকর।”
মাছ ব্যবসায়ী মাসুদ বাঙাল অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের কাছ থেকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। টাকা না দিলে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়।”
এলাকাবাসীর মধ্যেও রয়েছে চরম ক্ষোভ। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “এই চক্র শুধু বিদ্যুৎ নয়, বিভিন্নভাবে চাঁদাবাজিও করছে। আমরা একাধিকবার অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
আরেক বাসিন্দা মোশারাফ হোসেন বলেন, “অবৈধ সংযোগের কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এসব লাইনে কোনো নিরাপত্তা নেই। আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি।”
স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশেই অবৈধ মিটার স্থাপন ও সংযোগ কার্যক্রম চলছে। ফলে একদিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, তারা নিয়মিত বিল পরিশোধ করে বৈধ সংযোগ নিতে আগ্রহী। তবে জটিল প্রক্রিয়া ও সময়ক্ষেপণের কারণে তারা বাধ্য হয়ে অবৈধ সংযোগের ওপর নির্ভর করছেন, যা তাদের ব্যবসায়িক ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের আহ্বান, অবিলম্বে অভিযান চালিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হোক এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সচেতন মহলের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই অবৈধ চক্র আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।