নারায়ণগঞ্জের ব্যস্ততম এলাকা চাষাড়ায় হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে ১৯ বছর বয়সী এক কিশোর হকারকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আবুল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে। সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে চাষাড়া নূর মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই কিশোরের নাম মানিক।
ঘটনার বিবরণ:
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় নূর মসজিদের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মানিককে ডেকে আনেন বিএনপি নেতা আবুল ইউসুফ খান টিপু। সেখানে প্রকাশ্যে তাকে হকার হিসেবে অভিযুক্ত করে মারধর শুরু করেন তিনি। এক পর্যায়ে মানিককে কান ধরে উঠবস করানো হয় এবং চিৎকার করে শাসানো হয় এই বলে— “বল, আর জীবনে কোনোদিন হকারি করবি কি না?”
আহত মানিক:
নির্যাতনের শিকার মানিকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। বিশেষ করে তার হাতের একটি অংশ প্রচণ্ড আঘাতে ফুলে গেছে এবং মচকে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন তার স্বজনরা। মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছে ১৯ বছরের এই তরুণ।
অভিযুক্তের অতীত কর্মকাণ্ড:
স্থানীয়দের দাবি, অ্যাডভোকেট আবুল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে সাধারণ হকারদের মারধর ও বিভিন্ন সময় অপকর্মের অভিযোগ পুরনো। এর আগেও তিনি উচ্ছেদের নামে সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হয়েছেন এবং প্রভাব খাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা:
আহত মানিক বিচার চেয়ে রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অভিযোগ করতে গেলে এক অভাবনীয় পরিস্থিতির শিকার হন। মানিকের পরিবারের দাবি, থানায় ডিউটিরত এক নাম না জানা পুলিশ কর্মকর্তা সরাসরি জানিয়ে দেন যে, এই বিষয়ে কোনো অভিযোগ নেওয়া হবে না। কেন বা কার নির্দেশে পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানালো, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া:
চাষাড়া এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “হকার উচ্ছেদের জন্য প্রশাসন আছে, কিন্তু একজন রাজনৈতিক নেতা এভাবে রাস্তা থেকে ডেকে এনে কাউকে মারধর করতে পারেন না। তার ওপর পুলিশ যখন অভিযোগ নেয় না, তখন আমরা সাধারণ মানুষ কোথায় যাব?”
এই বিষয়ে অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট আবুল ইউসুফ খান টিপুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, থানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও অভিযোগ না নেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা মেলেনি।
নারায়ণগঞ্জের সুশীল সমাজ মনে করছে, আইনের শাসনের স্বার্থে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া এবং দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা জরুরি।