ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় সড়কের নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত ও বাঁশ নিয়ে তাড়া করার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ফোরকান মিয়াকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত সোমবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী উপসহকারী প্রকৌশলী মির্জা তরিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নবীনগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
প্রধান আসামি: মেসার্স লোকমান হোসেনের স্বত্বাধিকারী ও ঠিকাদার লোকমান হোসেন (৫০)।
অন্যান্য আসামি: ঠিকাদারের গাড়িচালক মো. বিল্লাল হোসেনসহ (৫৫) অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জন।
গ্রেপ্তার: ঠিকাদারের ব্যবস্থাপক ফোরকান মিয়া।
নবীনগর উপজেলার মেরকুটা বাজার থেকে শিবপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার একটি সড়ক নির্মাণের কাজ চলছিল। প্রায় ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা বাজেটের এই কাজের মূল কার্যাদেশ পেয়েছিল রাজশাহীর ‘মেসার্স বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’। তবে তাদের হয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করছিলেন স্থানীয় ঠিকাদার লোকমান হোসেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছিল। এর প্রতিবাদে গত রোববার স্থানীয়রা কাজে বাধা দেন। খবর পেয়ে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তারা কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও ঠিকাদার রাতের আঁধারে গোপনে কাজ চালিয়ে যান।
পরিদর্শন ও বাগবিতণ্ডা: সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এলজিইডির একটি পরিদর্শক দল মেরকুটা জিসি থেকে শিবপুর বাজার সড়ক পরিদর্শনে যান। সেখানে নিম্নমানের কাজের প্রমাণ পেয়ে ঠিকাদার লোকমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং সরকারি কাজে বাধা দেন।
মারধর ও তাড়া: একপর্যায়ে ঠিকাদার ও তার লোকজন উপসহকারী প্রকৌশলী মির্জা তরিকুল ইসলামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এরপর লাঠি ও ইট দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়।
ভাইরাল ভিডিও: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঠিকাদার লোকমান হোসেন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন এবং একপর্যায়ে একটি বাঁশ হাতে নিয়ে প্রকৌশলীকে তাড়া করছেন। প্রাণ বাঁচাতে প্রকৌশলীকে দৌড়ে পালাতে দেখা যায়।
এলজিইডির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলীল জানান, কাজে অনিয়ম ধরা পড়ার পর তা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদার তা অমান্য করায় সোমবার সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ঘটে। যতটুকু অংশে অনিয়ম হয়েছে, তা ভেঙে নতুন করে করতে হবে বলে তিনি জানান।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যবস্থাপক ছাড়া মামলার বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্ত ঠিকাদার লোকমান হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।