রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ব্যক্তিগত ভিডিও ব্যবহার করে এক তরুণীকে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগের সূত্র ধরে রাশিদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) নামের এক ভয়ংকর প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারের পর তরুণীদের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। গত ১৩ এপ্রিল যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে এই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, রাব্বির প্রতারণার ধরন ছিল খুবই সুপরিকল্পিত। সে ধারাবাহিকভাবে নিচের কাজগুলো করত:
অ্যাকাউন্ট দখল: প্রথমে কোনো এক নারীর সাথে পরিচিত হয়ে কৌশলে তার মোবাইল ফোন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিত।
নতুন টার্গেট: এরপর ওই নারীর আইডি ব্যবহার করে তার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা অন্যান্য মেয়েদের সাথে যোগাযোগ শুরু করত এবং ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়াত।
ফাঁদে ফেলা: নানা অজুহাতে নতুন টার্গেট করা তরুণীদের যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ডেকে নিত। সেখানে তার দুটি বাসা ছিল— একটি সে দিনের বেলা এবং আরেকটি রাতের বেলা ব্যবহার করত।
ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজি: বাসায় নেওয়ার পর সে ভুক্তভোগীদের ধর্ষণ করত অথবা ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে রাখত। পরে সেসব ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা, ব্যাংক ব্যালেন্স, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিত।
গত ৪ মার্চ যাত্রাবাড়ী থানায় এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। এরপর বেরিয়ে আসে একের পর এক অপরাধের ফিরিস্তি:
ভুক্তভোগীর সংখ্যা: গত দেড় মাসে (৪ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত) অন্তত ১০ জন ভুক্তভোগীর সন্ধান পেয়েছে পুলিশ, যাদের বেশিরভাগই মিরপুর এলাকার বাসিন্দা। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রাব্বি নিজেই ১৩ জন নারীর সাথে এমন প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে।
সম্মানহানির ভয়: পুলিশ জানায়, সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী আসল ঘটনা লুকিয়ে থানায় শুধু ‘মোবাইল হারিয়েছে’ মর্মে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতেন। পুলিশ এসব জিডির সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নেয় এবং আসল ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে।
উদ্ধার ও মামলা: রাব্বির কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলোর সবই ভুক্তভোগী নারীদের। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে এবং আরও কয়েকটি জিডির তদন্ত চলছে।
পেশায় বেকার রাশেদুল ইসলাম রাব্বি অপরাধের মাধ্যমেই জীবিকা নির্বাহ করত। সে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে তার শ্বশুরবাড়িতে থাকত। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, রাব্বি তার বর্তমান স্ত্রীকেও অবিকল একই কৌশলে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করতে বাধ্য করেছিল। এমনকি শ্বশুরবাড়িতে অবস্থানকালেও সে একই ধরনের অপরাধ করতে গিয়ে একবার ধরা পড়েছিল।
এই ঘটনায় পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রতারক রাব্বির বিরুদ্ধে আরও কোনো অভিযোগ থাকলে ভুক্তভোগীদের নির্ভয়ে পুলিশের সাথে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছেন ডিএমপি কর্মকর্তা মল্লিক আহসান উদ্দিন।