শহরের ব্যস্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ল্যাম্পপোস্ট—নিরবে, নির্লিপ্তভাবে তার কাজ করে যায়। দিনভর সে যেন অদৃশ্য, কেউ তাকে খেয়াল করে না। কিন্তু রাত নামলে, অন্ধকার ঘনিয়ে এলে, সেই ল্যাম্পপোস্টই আলো ছড়িয়ে পথচারীদের পথ দেখায়। সে কথা বলে না, অভিযোগ করে না, স্বীকৃতিও চায় না—তবুও তার অস্তিত্ব সমাজের জন্য অপরিহার্য।
আমাদের সমাজেও এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা ল্যাম্পপোস্টের মতোই নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। তারা নিজেদের প্রচার করেন না, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেও থাকেন না। কিন্তু প্রয়োজনের সময় ঠিকই তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেন—কারও বিপদে পাশে দাঁড়ান, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অন্তরে প্রতিবাদ জাগান, কিংবা নিঃশব্দে সমাজের ভারসাম্য রক্ষা করেন।
ল্যাম্পপোস্ট যেমন ঝড়-বৃষ্টি, ধুলোবালি সহ্য করেও নিজের জায়গা থেকে সরে যায় না, তেমনি সমাজের এই নীরব মানুষগুলোও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজেদের অবস্থান ধরে রাখেন। তারা হয়তো সবসময় দৃশ্যমান নন, কিন্তু তাদের উপস্থিতি সমাজকে স্থিতিশীল রাখে। তারা হলো সেই শক্ত ভিত, যার উপর দাঁড়িয়ে থাকে আমাদের দৈনন্দিন জীবন।
তবে ল্যাম্পপোস্টের মতো নীরব থাকা সবসময় গৌরবের নয়। কখনো কখনো আমাদের নীরবতা অন্যায়ের প্রশ্রয় হয়ে দাঁড়ায়। যখন অন্যায়, অবিচার বা অনৈতিকতা আমাদের চোখের সামনে ঘটে, তখন শুধু ল্যাম্পপোস্টের মতো দাঁড়িয়ে থাকা যথেষ্ট নয়। তখন প্রয়োজন সাহসিকতার, প্রয়োজন কণ্ঠস্বর তোলার।
আমাদের উচিত ল্যাম্পপোস্টের মতো দায়িত্বশীল ও স্থির থাকা, কিন্তু প্রয়োজনের সময় আলোর মতো জ্বলে ওঠা। নীরবতা তখনই সুন্দর, যখন তা সমাজের কল্যাণে কাজ করে; আর প্রতিবাদ তখনই প্রয়োজন, যখন নীরবতা অন্যায়কে শক্তিশালী করে তোলে।
আমরা যেন শুধু দাঁড়িয়ে থাকা ল্যাম্পপোস্ট না হই—আমরা যেন সেই আলো হয়ে উঠি, যা অন্ধকার ভেদ করে সত্য ও ন্যায়ের পথ।