কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় এক গৃহবধূকে (১৮) শ্লীলতাহানির অভিযোগে তানজিম হাসান ওরফে মেহেদী (২৫) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তানজিম স্থানীয়ভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। শনিবার রাতে ভুক্তভোগী নারী দেবীদ্বার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুপুরে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ওই গৃহবধূ ও তার স্বামী তানজিমদের বাসাতেই ভাড়া থাকেন। তার স্বামী পেশায় একজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। শনিবার সকালে স্বামী অটোরিকশা নিয়ে কাজে বেরিয়ে গেলে বাসায় একা ছিলেন ওই নারী। নিজেদের ঘরে রেফ্রিজারেটর না থাকায় তারা বাড়িওয়ালার ফ্রিজেই খাবার রাখতেন। ঘটনার দিন সকালে সেখান থেকে খাবার আনতে গেলে তানজিম ঘরের দরজা আটকে ওই নারীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। কোনোমতে নিজেকে রক্ষা করে ভুক্তভোগী নারী তার স্বামীকে সব ঘটনা খুলে বলেন। এরপর স্বামী বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলতে গেলে রাজনৈতিক ইস্যুতে দুপক্ষের মধ্যে হট্টগোল ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় ওই দম্পতি সরাসরি থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, গৃহবধূর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।
তবে এই ঘটনায় ভিন্ন ভিন্ন মতও পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক এনসিপি কর্মীর দাবি, দেবীদ্বারে দলের কিংবা এর অঙ্গসংগঠনগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক কমিটি না থাকায় তানজিমের কোনো নির্দিষ্ট দলীয় পদবি নেই, তবে তিনি দলের সব কর্মসূচিতেই সামনের সারিতে থাকতেন। সম্প্রতি স্থানীয় একটি মাদক চক্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, স্থানীয় অন্তত তিনজন বাসিন্দা সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তাদের দাবি, একই বাসায় পাশাপাশি কক্ষে বসবাস করার সুবাদে তানজিম ও ওই গৃহবধূর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বা পরকীয়া চলছিল।