সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভুয়া ওকালতনামা তৈরি এবং বিক্রির অভিযোগে দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (বিকেলে) অনুষ্ঠিত সমিতির এক জরুরি সভায় জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় এবং অভিযুক্তরা দোষ স্বীকার করায় একজনকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত ও অপরজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
শাস্তি পাওয়া এই দুই কর্মচারী হলেন— সমিতির অফিস সহায়ক মো. তৌহিদ হোসেন, যাকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং প্রধান করণিক মনোয়ার হোসেন, যাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
যেভাবে ধরা পড়ে এই জালিয়াতি কয়েক মাস আগে সুমন সরকার নামের একজন আইনজীবী অফিস সহায়ক তৌহিদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা মূল্যের একটি ওকালতনামা কেনেন। ওই ওকালতনামায় সমিতির পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমানের স্বাক্ষর দেওয়া ছিল। কাকতালীয়ভাবে সুমন ও মিজানুর পাশাপাশি ডেস্কে বসতেন। স্বাক্ষরটি দেখে সন্দেহ হলে সুমন সেটি মিজানুরকে দেখান। মিজানুর নিশ্চিত করেন যে স্বাক্ষরটি জাল।
এরপর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সমিতির সভাপতির কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। সভাপতি তৌহিদ হোসেনকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেয়। পরবর্তীতে আরও কয়েকজন আইনজীবী এমন ভুয়া ওকালতনামার প্রমাণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন।
সমিতির আর্থিক ক্ষতি ও আইনজীবীদের ক্ষোভ দিনাজপুর আইনজীবী সমিতির আয়ের মূল উৎস হলো বিভিন্ন ধরনের আইনি ফর্ম বিক্রি (যেমন- ৫০০ টাকার ওকালতনামা, ৩৫০ টাকার বেলবন্ড, ১৫ টাকার হাজিরা এবং ২০ টাকার ফিরিস্তি)। কয়েকজন আইনজীবী জানান, স্বাভাবিক সময়ে সমিতির দৈনিক আয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকার মতো হয়। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে তা কমে মাত্র ৬০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় নেমে এসেছিল।
আদালত প্রাঙ্গণে ভুয়া ওকালতনামার ব্যাপক প্রসারের কারণেই যে এই আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা এখন স্পষ্ট। আইনজীবীদের ধারণা, কয়েকজন অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে একটি চক্র এই জালিয়াতি চালিয়ে যাচ্ছিল। তারা পুরো চক্রটিকে আইনের আওতায় আনতে আরও গভীর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ এ বিষয়ে দিনাজপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল হালিম জানান, জাল ওকালতনামার অভিযোগ বেশ কিছুদিন ধরেই আসছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও জরুরি সভার আলোচনার ভিত্তিতেই এই দুজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুব শিগগিরই ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে। পাশাপাশি অধিকতর তদন্ত চলবে এবং সমিতির অন্য কোনো কর্মকর্তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।