ঝিনাইদহের মহেশপুরে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৫) অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর সেই দৃশ্য ভিডিও করার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২৬ মার্চের এই ঘটনায় সম্প্রতি ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত ও অভিযুক্তদের পরিচয় পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত দুজন হলেন— মহেশপুর উপজেলার বাগদিয়ার গ্রামের মো. হজরত আলী (২২) এবং সামন্ত চড়াতলাপাড়ার আসের আলী ওরফে রাজু (১৮)।
ভুক্তভোগীর ফুফু বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারভুক্ত অন্য তিন আসামি হলেন— বাগদিয়ার গ্রামের মো. শাওন (২০), নয়ন (২৩) ও আমিন (২১)। পলাতক আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যেভাবে ঘটে এই পাশবিক ঘটনা মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ রাত ৮টার দিকে ওই কিশোরী বাড়ির কাছে তার বন্ধু রাজুর সঙ্গে দেখা করতে যায়। সে সময় হজরত আলী ও শাওন সেখানে উপস্থিত হয়ে রাজুকে মারধর করে। এরপর তারা ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক পাশের একটি মাঠে নিয়ে যায়, যেখানে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিল নয়ন ও আমিন।
মাঠে নিয়ে হজরত, শাওন এবং নয়ন মিলে ওই ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। এই সময় আমিন তার মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। বিষয়টি কাউকে জানালে ধারণকৃত ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার এবং তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসামিরা তাকে সেখানে রেখেই চলে যায়।
হুমকি ও আইনি ব্যবস্থা পরদিন সকালে বাড়ি ফিরে ভুক্তভোগী তার ফুফুকে সব ঘটনা খুলে বলে। ফুফু আসামিদের কাছে গিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ করলে উল্টো তাকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ছাত্রী গণমাধ্যমকে জানায়, ঘটনার পর সে চরম আতঙ্কে ছিল। লজ্জায় ও ভয়ে সে তার ফুফুকেও বিষয়টি অন্য কাউকে জানাতে নিষেধ করেছিল। কিন্তু অপরাধীরা ধর্ষণের ওই ভিডিও এলাকার কয়েকজনকে দেখালে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। এরপর পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে তারা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বর্তমান পরিস্থিতি ওসি মেহেদী হাসান জানান, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগীকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত এক আসামিসহ সন্দেহভাজন আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত হজরত আলীকে আদালতে হাজির করার পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, রাজুকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার প্রক্রিয়া চলছে।