জ্বালানি সংকট, যানজট এবং সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাবের কথা মাথায় রেখে দেশের বিদ্যালয়গুলোতে সশরীরে ও অনলাইনে সমন্বিত (ব্লেন্ডেড) পাঠদানের পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান। আগামী ২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, রমজান ও অন্যান্য ছুটির কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে বর্তমানে শনিবারও স্কুল চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে অনলাইন ক্লাসের বিষয়টিকেও এখন যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একটি সাম্প্রতিক জরিপের তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, শতকরা ৫৫ ভাগ অভিভাবক ও শিক্ষার্থী আংশিক অনলাইন ক্লাসের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তবে পুরোপুরি অনলাইন ক্লাস চালু হলে শিক্ষার্থীদের সামাজিকীকরণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে, সেদিকটিও সরকার সতর্কতার সাথে বিবেচনা করছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, বৃহস্পতিবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় স্কুলগুলোতে এই মিশ্র পদ্ধতি চালুর কথা ভাবা হলেও, কলেজগুলোতেও এটি বাস্তবায়ন করা যায় কি না তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে ভিন্ন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে তিনি আভাস দেন।
এছাড়াও বড় শহরগুলোর যানজট, জ্বালানি সমস্যা এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব নিরসনে বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়েও ভাবছে সরকার। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস, বৈদ্যুতিক ও সৌরচালিত যানবাহন এবং মেট্রো সুবিধা কাজে লাগানোর বিষয়টিও সরকারের পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে বলে শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন।