পটুয়াখালী সদর উপজেলায় মাত্র দেড় হাজার টাকা পাওনা চাওয়ার অপরাধে মো. রহিম প্যাদা (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ চা-দোকানিকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ক্রেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার রাতের এই মর্মান্তিক ঘটনার পর বুধবার বিকেলে নিহতের বড় মেয়ে বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এক নজরে ঘটনার মূল তথ্য:
নিহত ব্যক্তি: মো. রহিম প্যাদা (৬৫), মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের (পশ্চিম হেতালিয়া) সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা।
বকেয়ার পরিমাণ: ১ হাজার ৫০০ টাকা।
প্রধান অভিযুক্ত: স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হাওলাদার, তার ভাই জামাল হাওলাদার, শাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ আরও কয়েকজন।
যেভাবে ঘটল এই নির্মম হত্যাকাণ্ড: প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে কামাল হাওলাদার ওই দোকানে এসে আবারও বাকিতে সিগারেট দাবি করেন। রহিম প্যাদা আগের বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে বললে কামাল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি বৃদ্ধকে টেনেহিঁচড়ে দোকান থেকে বের করে মারধর শুরু করেন। এ সময় বৃদ্ধের স্ত্রী সেতারা বেগম এবং নাতি-নাতনিরা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের ওপরও চড়াও হয়।
পরবর্তীতে কামালের বড় ভাই জামাল হাওলাদার, আশ্রয়ণ প্রকল্পের কথিত সভাপতি শাহাবুদ্দিন, নুরুল ইসলাম ও খোকন হাওলাদারসহ আরও কয়েকজন এই হামলায় যোগ দেয়। তারা লোহার রড দিয়ে বৃদ্ধ রহিম প্যাদাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং তার নাক-মুখ দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। রাত ৯টার দিকে তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলা ও পুলিশের আইনি পদক্ষেপ: নিহতের বড় মেয়ে নাজমা বেগম বুধবার বিকেল ৩টার দিকে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে তিনি জানান, আসামিরা এর আগেও তার বাবাকে মারধর করেছিল।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, নিহতের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।