আলুর লোকসান কাটিয়ে উঠতে গোবিন্দগঞ্জের কৃষকের শেষ ভরসা এখন সোনালী ধান
মো এনামুল হক
/ ২৪৯
Time View
Update :
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬
Share
ছবি: সংগৃহীত
উত্তরবঙ্গের শস্যভাণ্ডার খ্যাত গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় আলুর বাজারে বড় ধরনের লোকসানের ধাক্কা সামলে উঠতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। আলুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় যে আর্থিক সংকটে তারা পড়েছেন, তা কাটিয়ে উঠতে এখন তাদের একমাত্র ভরসা ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলন। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ কৃষকের মনে নতুন করে আশার আলো জাগাচ্ছে।
পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা কৃষক
চলতি মৌসুমে গোবিন্দগঞ্জের রাজাহার গুমানীগনজ কামারদহ, শালমারা, মহিমাগঞ্জ ও রাখালবুরুজসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে আলুর চাষ হয়েছিল ব্যাপক। কিন্তু শেষ সময়ে এসে অসময়ের বৃষ্টি এবং বাজারে হঠাৎ দরপতনের ফলে অনেক কৃষক তাদের উৎপাদন খরচও তুলতে পারেননি। অনেক জমিতে আলু পচে যাওয়ায় চরম লোকসানে পড়েন তারা। পুঁজি হারিয়ে অনেক কৃষক যখন দিশেহারা, ঠিক তখনই ধানের মাঠ তাদের নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
ধানের বাম্পার ফলনের হাতছানি
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নের নিচকিন চাপড় সহ সকল গ্রামের মাঠগুলোতে এখন যেদিকেই তাকানো যায়, কেবল ধানের ঢেউ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং রোগবালাইয়ের প্রকোপ কম হওয়ায় এবার গোবিন্দগঞ্জে ধানের বাম্পার ফলনের জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
কৃষকরা জানিয়েছেন, এবার ধানের ছড়া বেশ পুষ্ট হয়েছে। সেচ ও সারের সংকট না থাকায় ধানের বৃদ্ধি সন্তোষজনক।
লক্ষ্যমাত্রা: কৃষি অফিসের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে এবার ধান চাষ হয়েছে, যার বড় একটি অংশ চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী উর্বর জমি।
সরেজমিনে কৃষকদের আর্তনাদ ও আশা
”আলু চাষ করে এবার আমার প্রায় ৫০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। ঋণের টাকা শোধ করা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এখন আল্লাহর রহমতে ধান খুব ভালো দেখা যাচ্ছে। যদি ঠিকমতো ধান ঘরে তুলতে পারি, তবে লোকসান কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়া যাবে।”
মো. হারুন মিয়া বলেন —
”আমরা সাধারণ কৃষক মানুষ, একবার শস্য মার খেলে সারা বছর কষ্টে কাটে। আলুর ক্ষতি আমাদের কোমর ভেঙে দিয়েছে। এখন ধানের ওপরই আমাদের সব ভরসা। আশা করছি সরকার ন্যায্য দামে ধান কিনবে যাতে আমাদের মতো কৃষকেরা টিকে থাকতে পারে।”
বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরকারি তদারকির দাবি
কৃষকদের মতে, ধানের ফলন ভালো হলেও বড় দুশ্চিন্তা হলো ন্যায্য বাজার দর। আলুর মতো ধানেও যেন লোকসান না হয়, সেজন্য সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট ভাঙার দাবি জানিয়েছেন তারা।
গোবিন্দগঞ্জের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। আলুর ক্ষত শুকোতে ধানের এই বাম্পার ফলন কৃষকদের জন্য এক সঞ্জীবনী সুধা হিসেবে কাজ করছে। এখন শুধু সোনালী ধান ঘরে তোলার অপেক্ষা। এলাকার বাসী