কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌর এলাকায় মাদ্রাসার সংস্কারকাজ চলার সময় দেয়াল ধসে সিফাত হোসেন (১১) নামের এক শিশুশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণকাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে ওই মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
স্থান ও সময়: সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দেবীদ্বার পৌরসভার ছোট আলমপুর এলাকায় ‘মাদরাসা কা-শিফুল উলুম’-এ এই দুর্ঘটনা ঘটে। মাদ্রাসার পরিচালক আনিসুর রহমান একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলা ও দোতলা ভাড়া নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চালাতেন।
নিহত শিক্ষার্থীর পরিচয়: নিহত সিফাত দেবীদ্বারের বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের ব্যবসায়ী মাসুম আহমেদের ছেলে। সে ওই মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের আবাসিক ছাত্র ছিল।
কী ঘটেছিল: মাদ্রাসার নিচতলায় একটি পুরোনো বিভাজক দেয়াল ভাঙার কাজ চলছিল। এ সময় হঠাৎ দেয়ালের একটি বড় অংশ ধসে সিফাতের ওপর পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় মাদ্রাসার শিক্ষকদের চরম অবহেলার চিত্র উঠে এসেছে:
শিশুদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ: স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসার সংস্কারকাজে কোনো দক্ষ শ্রমিক না লাগিয়ে আবাসিক শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা হচ্ছিল। কয়েকদিন ধরেই ছাত্রদের দিয়ে ইট টানানোসহ ঝুঁকিপূর্ণ নানা কাজ করানো হতো।
রক্ত পরিষ্কারে ব্যস্ত শিক্ষক: প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দেয়াল ধসার পর আহত সিফাতকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার বদলে মাদ্রাসার এক শিক্ষক ঘটনাস্থলের রক্ত মুছে প্রমাণ নষ্ট করতে ব্যস্ত ছিলেন। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়া এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
স্থানীয়রা এই ঘটনাকে দুর্ঘটনা নয়, বরং অবহেলাজনিত ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মামলা দায়ের: মঙ্গলবার দুপুরে সিফাতের বাবা মাসুম আহমেদ দেবীদ্বার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মাদ্রাসার পরিচালক আনিসুর রহমান এবং দুই শিক্ষক আজিজুর রহমান ও মুস্তাফিজুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন।
পুলিশের বক্তব্য: দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে মর্মে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
বর্তমান পরিস্থিতি: ঘটনার পরপরই উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসাটি ভাঙচুরের চেষ্টা করলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভবনটিতে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং মাদ্রাসায় থাকা অন্যান্য আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপদে তাদের অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।