আজ ২৬শে মার্চ, বাঙালির আত্মপরিচয় ও শৃঙ্খলমুক্তির দিন—মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি জাতি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রামে। আজকের এই গৌরবোজ্জ্বল দিনে ‘সাপ্তাহিক অপরাধের শেষ পাতা’ পত্রিকার পক্ষ থেকে আমরা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেইসব বীর শহীদদের, যাঁদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের এই লাল-সবুজ পতাকা।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ শুরু করে, ঠিক তখনই রচিত হয় প্রতিরোধের মহাকাব্য। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা নিজেদের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে রচনা করেছেন স্বাধীনতার অমর গাঁথা। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বিশ্বমানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। তাঁদের এই অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বগাথা আমাদের চিরন্তন অনুপ্রেরণার উৎস।
বীর শহীদেরা কেবল একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের স্বপ্ন দেখেননি; তাঁরা স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত এবং ন্যায়ভিত্তিক নিরাপদ সমাজের। ‘সাপ্তাহিক অপরাধের শেষ পাতা’ পরিবার গভীরভাবে বিশ্বাস করে, তাঁদের সেই কাঙ্ক্ষিত সমাজ গঠনে সব ধরনের অপরাধ, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই হলো শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন।
স্বাধীনতা দিবসের এই পুণ্যলগ্নে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার—সত্যের পক্ষে অবিচল থেকে একটি অপরাধমুক্ত, ন্যায়নিষ্ঠ ও স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে আমরা আমাদের বস্তুনিষ্ঠ লেখনী ও কলম যুদ্ধ চালিয়ে যাব।
স্বাধীনতার এই ৫৬তম বছরে এসে আমরা অবনত মস্তকে স্মরণ করি রণাঙ্গনের অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের সকল সংগঠকদের। যেসব শহীদদের পবিত্র রক্তে আজ আমরা স্বাধীন দেশের মুক্ত নাগরিক, তাঁদের স্মৃতি বাঙালির হৃদয়ে চির অম্লান থাকুক। মহান স্বাধীনতা দিবসের চেতনা আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে সত্য ও ন্যায়ের পথপ্রদর্শক হোক।