ওয়ারিশ সনদে দেখা যায় চাঁদপুর রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ০২/০২/২৫ তারিখে সনদ নং ১৫১৪৭১০০০১৮১ এ গোল সাহেরার ওয়ারিশ মো: আলী মিজি, ফকরুন্নেছা বেগম,ফাতেমা বেগম,শরীয়ত নেছা উল্লেখ করা হয়৷ এবং শরীয়তপুরের জেলার সখিপুর ইউনিয়নের ওয়ারিশ সনদে একই গোল সাহেরার ওয়ারিশ করা হয় মৃত ইউছুব আলী গাজীর ওয়ারিশ মৃত হাসমত গাজী ও আব্দুল রহমান গাজীকে। এ নিয়েই এলাকায় চলে বিরোধ দফায় দফায় চলে মামলা মকদ্দমা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সখিপুর থানাধীন মাধু সরকার কান্দি এলাকার সখিপুর মৌজায় ভেদরগঞ্জ ভূমি অফিসের অভিযোগে মো: আলী মিজি নামজারি বাতিলের আবেদন করেন যে গোল সাহেরার নামে বিআরএস ৩৩৪২ নম্বর খতিয়ানের ৩০৮৭, ৩০৯২, ৩৩১৮, ৩০৯১, ৪৭৯২ ও ৪৭৯৩ নম্বর দাগে মোট ৬৩ শতাংশ ৮৬ অযুতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমির মালিকানা নিয়ে গোল সাহেরার ওয়ারিশদের সঙ্গে মৃত আবদুর রহমান গাজীর ওয়ারিশ মোহাম্মদ, ফারুক, নবীন হোসপন, কবির হোসেন, তাছলিমা,রাশিদা বেগম, জাহানারা বেগমের মধ্যে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে বছরের পর পর ধরে বিচার সালিশ চলে আসছে।
গোল সাহেরার ছেলে মো. আলী মিঝির দাবি, তাঁর মা ২০০১ সালে মারা যাওয়ার পর তাঁরা ভাই-বোনেরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। তবে মৃত আবদুর রহমান গাজীর ওয়ারিশ পরিচয়ে কয়েকজন জাল ওয়ারিশ সনদ ব্যবহার করে জমির নামজারি করিয়ে দখলের চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় তাঁরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আলী মিঝি জানান, নামজারি বাতিলের জন্য আবেদন করলে সখিপুর ‘ক’ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. জুয়েল হোসেন ঢালী সরেজমিন তদন্ত করেন। পরে সংশ্লিষ্ট নামজারি বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ফরহাদ আলম বলেন, ওয়ারিশ সনদ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক করা হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি। জমিতে ঘর নির্মাণ করতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁদের হুমকি-ধমকি ও মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে সখিপুর ‘ক’ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. জুয়েল হোসেন ঢালী বলেন, অভিযোগকারীরা রেকর্ডীয় মালিক এবং জমিটি তাঁদের ভোগদখলে রয়েছে। গোল সাহেরার নামে দেওয়া দুটি ওয়ারিশ সনদ পর্যালোচনা করে অসংগতি পাওয়া গেছে। তাঁর মতে, সনদ দুটি জাল। তবে জমির মালিকানা ও সনদের বৈধতা-সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা আদালতের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। এবং IX-P-J-2084/24-25 নং নামজারীকৃত জমাভাগ মোকদ্দমা বাতিল করা যেতে পারে এ বিষয় আমি তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করি
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে ফারুক গাজী বলেন, “তাঁদের অভিযোগ মিথ্যা। গোল সাহেরা আমার বড় মা। আমরা এ সম্পত্তির ওয়ারিশ। এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে। কাগজপত্রের ভিত্তিতে জমির অধিকার পেলে নেব, না পেলে নেব না।”
সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাচ্চু সরকার জীবন বলেন, “আমি এলাকায় তদন্ত করে ওয়ারিশ সনদে স্বাক্ষর করেছি। যদি সনদ জাল হয়, আইনে প্রমাণিত হবে।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, গোল সাহেরার ওয়ারিশরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। তবে জমির প্রকৃত মালিকানা ও ওয়ারিশ সনদের বৈধতা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি চান স্থানীয়রা।