রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুল নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত বুধবার গভীর রাতে রায়েরবাজারের সাদেক খান ইটখোলা এলাকায় পূর্ববিরোধ মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে তাকে খুন করা হয়।
হত্যাকাণ্ড: বুধবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে পুলিশ সাদেক খান ইটখোলা এলাকা থেকে আসাদুলের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
ফাঁদ: ওলিউর নামের এক বন্ধু পূর্বশত্রুতা মীমাংসার কথা বলে আসাদুলকে ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ: হত্যাকাণ্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে এটি ওই এলাকায় দ্বিতীয় খুনের ঘটনা।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, এই খুনের পেছনে রয়েছে মূলত ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ:
পূর্বশত্রুতা: নিহত আসাদুল ও প্রধান অভিযুক্ত মো. আকতার হোসেন—উভয়ই স্থানীয় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। গত বছরের জুলাই মাসে আসাদুলের নেতৃত্বে আকতারকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছিল। ওই মামলায় আসাদুল গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে বেরিয়ে আসেন।
সাম্প্রতিক উত্তেজনা: গত ১৭ মার্চ আসাদুল আকতারের সহযোগী নয়ন নামের একজনকে মারধর করে। মূলত এই ঘটনার জের ধরেই মীমাংসার ফাঁদ পেতে তাকে হত্যা করা হয়।
ব্যক্তিগত পরিচিতি: নিহত আসাদুল 'চার্লি' নামের একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতা ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় ৪টি মাদক মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত আকতার হোসেন এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারি হলেও, সম্প্রতি তিনি নিজেকে স্থানীয় শ্রমিক দল নেতা হিসেবে প্রচার করে আসছিলেন।
মামলা: নিহতের চাচাতো বোন আঞ্জু আক্তার বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে শুক্রবার মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
গ্রেপ্তার: পুলিশ ও র্যাব আলাদাভাবে দ্রুততম সময়ে অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত আকতার হোসেনসহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত অন্য আসামিরা হলেন—মুন্না (২৪), মিরাজ ফকির (২২), মো. নয়ন ওরফে খোকন (২৪), মো. আসাদুল ইসলাম (২৫) এবং মো. শাওন (২৭)।
স্বীকারোক্তি: সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামিদের শনাক্ত করা হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুজন ইতিমধ্যে হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি চললেও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নেয় না। তবে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন জানান, এলাকাটিতে আগে থেকেই অপরাধ প্রবণতা বেশি এবং সেখানে নিয়মিত পুলিশি অভিযান চলছে। শুধুমাত্র গত মার্চ মাসেই বিভিন্ন অপরাধে ৬৭৩ জনকে গ্রেপ্তার ও ৭ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর ওই এলাকায় পুলিশি টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।